Breaking News
Home / অন্যান্য / নিজের তৈরি বাইক বাজারজাত করতে চান মুন্না

নিজের তৈরি বাইক বাজারজাত করতে চান মুন্না

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র মনোয়ারুল ইসলাম মুন্না। বিভিন্ন জিনিষ আবিষ্কারের জন্য তার কলেজ ও এলাকায় তিনি ‘বিস্ময় বালক’ হিসেবে পরিচিত। |আরো খবর কাদম্বিনী কি করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারবে? ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পর্যায় সম্পন্ন: বায়োটেকের দাবি দেশে প্রথম করোনা ‘ভ্যাকসিন’ আবিষ্কারের দাবি মুন্নার দাবি, বৈদ্যুতিক চার্জে চালিত তার আবিষ্কৃত গ্যালাক্সি বাইকে কিলোমিটার প্রতি খরচ হবে মাত্র ৩৫ পয়সা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে খরচ হতো ২ পয়সা। সম্প্রতি মুন্নার আবিষ্কৃত গ্যালাক্সি বাইক বা মোটরসাইকেলের মেকানিক্যাল আরও আপডেট করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি) ৮ লাখ টাকার বৃত্তি ঘোষণা করেছে। মুন্না বলেন, বুয়েটের একটি প্রতিনিধিদল আমার আবিষ্কৃত জ্বালানিবিহীন মোটরসাইকেলের বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। প্রতিনিধিদলটি আমাকে উৎসাহও দিয়েছে। মেকানিক্যাল দিক আপডেটেড করতে আরও অর্থ বৃত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশও করেছে প্রতিনিধি দলটি। মুন্নার ভাষ্য মতে, তার আবিষ্কৃত মোটরসাইকেলে ১০টি এন্টিকাটার রয়েছে। প্রতি এন্টিকাটারে ১০ কিলোমিটার করে একবার চার্জে ১শ’ কিলোমিটার পথ যাবে। একবার চার্জে খরচ হবে ৩ থেকে ৪ টাকার বিদ্যুৎ। ৪৫ কিলোমিটার গতিতে মোটরসাইকেলটি চললে ব্যাটারি অটো চার্জ হবে। এতে আরও ৩০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করা সম্ভব হবে। দেশীয় প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই এ মোটরবাইক তৈরিতে খরচ হবে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবছর ১০ হাজার মোটরসাইকেল তৈরি করা যাবে বলে জানান মুন্না।

মেকানিক্যাল দিক আরও আপডেটেড করা গেলে মোটরসাইকেল তৈরি ও কিলোমিটার প্রতি খরচ আরও কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় মোটরবাইকটি স্বল্পমূল্যে বাজারজাত ও বিদেশে রফতানি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এ খুদে বিজ্ঞানী। মুন্না বলেন, এর চাকা অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। চাকাতে রয়েছে ড্রাম ব্রেক সিস্টেম। বডির স্টিল ও সিট ক‍ভার নিজের তৈরি। অন্য যন্ত্রাংশ সাধারণ মোটরসাইকেলের মতোই। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রেখে এটি বাজারজাত করাই এখন তার মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে এটি তৈরি ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে কথা হয়েছে। প্রযুক্তিটি কাজে লাগানোর আশ্বাস দিয়েছে তারা। এ গবেষণায় প্রাপ্ত ফেলোশিপ (বৃত্তি) প্রসঙ্গে মুন্না বলেন, আবিষ্কৃত মোটরসাইকেলের প্রযুক্তি আরও আপডেটেড করতে আইসিটি বিভাগ বৃত্তি দিয়েছে। প্রথম কিস্তিতে ৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। গবেষণার অগ্রগতি দেখে আরও ৪ লাখ টাকা দেবে। তার গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করতে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার অনুরোধ জানান প্রতিভাবান এ খুদে বিজ্ঞানী।

মোটরসাইকেল আবিষ্কার প্রসঙ্গে মুন্না বলেন, ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর মাত্র দেড় মাসে এ মোটরসাইকেলটি আমি আবিষ্কার করি। বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে মাছ চাষ করতেন মুন্না ও তার পরিবারের লোকজন। দীর্ঘ এ পথ তাকে প্রতিদিনি পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করে বাইসাইকেল চালিয়ে যেতে হতো। পরিশ্রম, অর্থ আর সময় সাশ্রয়ের ভাবনা থেকে পাওয়ার সেভিং ও ফুয়েল ফ্রি মোটরসাইকেল আবিষ্কারের চিন্তা ঢুকে তার মাথায়। সেই চিন্তা থেকেই এই মোটরসাইকেল আবিষ্কার। তার আবিষ্কার দেখে স্থানীয় মানুষের মাঝে হৈ চৈ পড়ে যায়।-যোগ করেন মুন্না। তিনি বলেন, লাইট, টায়ার ছাড়া সব নিজের তৈরি। বিনিয়োগ সহায়তা পেলে এগুলোও তৈরি করা যাবে। এ মোটরবাইকের ১৮ মাসের আগে ব্যাটারি পরিবর্তন করতে হবে না। আইসিটি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে মুন্না বলেন, মোটরসাইকেল আবিষ্কারটি এ মন্ত্রণালয়ের জন্য আলোর মুখ দেখছে। আমার সব আবিষ্কার যেন আলোর মুখ দেখে সে প্রতিক্ষায় আছি। বাবা তাজুল ইসলামের অনুপ্রেরণা ও আর্থিক সহায়তায় মুন্নার এসব গবেষণা চলছে। এর আগে কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তার সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। তবে এবার মুন্না তার অবিষ্কৃত ‘গ্যালাক্সি বাইক’ নিয়ে নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

About _boss_

Check Also

ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ডসে গ্লোবাল থিংকার্স সোসাইটি

করোনা মোকাবেলা করে ভবিষ্যত স্বপ্ন জয়ের প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক অন-লাইন যুব সম্মেলন ‘ভার্চুয়াল ইয়ুথ সামিট অ্যান্ড …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *